নিজের ও নিজের কবিতার সাথে নিজের কথোপকথনসমূহ
নাঈম ফিরোজ
মনোলগ: ০১
সুরে, আমি যা যা দেখেছি, আলোয় ও আঁধিয়ারে, অন্তর-লোকনে আমি তা তা-ই লিখতে পেরে গেছি। আর যা যা দেখিনি, দেখতে পাইনি, কবিতায়, শাশ্বত তা আমি করতে পারিনি। জীবিত কবিদের মধ্যে সম্ভবত আমিই বাংলা কবিতার শেষ মায়েস্ত্রো যে কবিতাকে থরে বিথরে সাজিয়েছে, কলমের সিম্ফনিতে, হীরন্ময় জোনাক-জ্যোস্নায়।
মনোলগ: ০২
কবিতা আমাদের আইডেন্টিটির অংশ।
লেখাটা, কেউ না পড়লেও, উদ্দিষ্ট লেখকের, লেখাকে সমৃদ্ধ করে তার লিখে কোথাও তুলে রাখা, তা সে ফেইসবুক হোক আর কোনো ছোট বা বড় কাগজ, ফুটপাথ বা দেয়াল। ডিকোড করতে না পারা, অসূয়া, সময়াভাব, আগ্রহাভাব, রুচির দারিদ্র্য সর্বোপরি বোধশুন্য সময়ের ভিকটিম মানুষের পাঠরহিত থাকাকে সহজভাবে নিতে হবে। আমি নিই। কবিতা লেখা, পোস্ট করা বা এর মুক্ত-সঞ্চালন নির্বাধ ও স্বতঃস্ফূর্ততায় চলতে থাকুক। কবিতা মনোময়, মনোহর, মনোলোভা! পুনশ্চ, নিজ নিজ কবিতা আমাদের আইডেন্টিটির অংশই। কে তা রিকগনাইজ করতে পারলো না পারলো তাতে কবি হিসেবে আমার ডাল্ডা আসে আর যায়।
মনোলগ: ০৩
ফি কবির উদ্দেশ(end) এবং মার্গ(means) দুটৈ তার কবিতা। অর্থাৎ কবি ‘কবিতা’ লিখতে লিখতেই মহাকবিতার কাছে যেতে চায়, চাই কি সে মহাকবিতাসত্তা-ই হোক ঈশ্বরস্য। কবি যে, তার প্রার্থনা ও প্রার্থিত দুই-ই এক আর তাকেই ‘কবিতা’ বলে।
কবিতাতো প্রার্থনা ও স্বপ্নের রঁদেভ্যুই৷
না?

