আমার ভেতরে আমি
উপল বড়ুয়া
আমার আজ কথা বলার কেউ নেই। আমি জনে জনে গিয়ে বললাম, ‘আমার কথাটা শোনো’। মানুষের কাছে গেলাম, মানুষ ফিরিয়ে দিল। আয়নাকে বললাম, উত্তর আসে না। বৃক্ষের ভাষা কিছুই বুঝি না। নদী পাড়ে বসেও দেখেছি। প্রত্যুত্তর আসে না। আমার কথা বলার কেউ নেই। এখন নিজের সঙ্গে নিজের কথা বলা ছাড়া, নিজের সঙ্গে নিজের বোঝাপড়া ছাড়া আমার আর কিছুই করার নেই৷ আমাকে বিড়বিড় করে কথা বলে হাঁটতে দেখলে, লোকে ভাবে পাগল। কিন্তু মানুষ কি মনে মনে আরাধনা করে না? কাকে তখন ডাকে সে? ঈশ্বরকে? ঈশ্বর কি উত্তর দেন? আমি মনে মনে নিজেকে ডাকি। আমার মন উত্তর দেয়। যদি বলি মনকে, ‘ক্ষুধা লাগছে খুব’। মন উত্তর দেয়, ‘খাও’। মনকে যদি বলি, ‘ঘুমাও’। মন মুহূর্তেই ঘুমিয়ে পড়ে।
আমার ভেতরে আপনাআপনি গজিয়ে উঠেছে ঘাস, লতাপাতা, উইয়ের ঢিবি? আমি কি তবে বাল্মীকি? মোটেও নয়। আমি এক আমি, অনেক আমি’র ভেতরে। আমার নামটা যেন কী! হয়তো ভুলে গেছি। মনে পড়লে বলব। তার আগে বলো তোমার ভেতরে যে বাস করে তার নাম ধাম পরিচয়র্।
মূলত আমার আমিকে বুঝাটাই জীবন। যতদিন আমি নিজেকে বুঝিনি, বনে-জঙ্গলে, পাহাড়ে ঘুরে ঘুরে অন্যকে খুঁজেছি। এভাবে কেটে গেছে বছরের পর বছর। আমাকে কেউ সাড়া দেয়নি। আমাকে কেউ বলেনি, ‘তোমার কথা শুনতে চাই’। আমাকে কেউ বলেনি, ‘তোমার কথা বলো’। অন্যের জবাব না পেয়ে এখন নিজেকে নিজে প্রশ্ন করি। উত্তরটাও দিই নিজে। আমার হাতেই নিজেকে সঁপে দিয়েছি। যখন চারদিকে নীরবতা, আমার মন কথা বলে উঠে। যখন চারদিকে কোলাহল, আমার মন চুপ হয়ে যায়। এভাবেই আমি বন্ধু করেছি আমাকে।
আমার একাকীত্ব নেই, নেই নিঃসঙ্গতা। যেটুকু আছে সেটুকু পুরোপুরি আমি। আমার ভেতরে আপনাআপনি গজিয়ে উঠেছে ঘাস, লতাপাতা, উইয়ের ঢিবি? আমি কি তবে বাল্মীকি? মোটেও নয়। আমি এক আমি, অনেক আমি’র ভেতরে। আমার নামটা যেন কী! হয়তো ভুলে গেছি। মনে পড়লে বলব। তার আগে বলো তোমার ভেতরে যে বাস করে তার নাম ধাম পরিচয়। তোমার পরিচয় পেলে, কথা বললে দুজনের বন্ধুত্বও তো হতে পারে।

